নির্জনতার দেশে: দেখো বসন্ত আসে

 এপ্রিল মাস আগমনের সাথে সাথে তুষারপাতের প্রকোপ কমতে থাকে। তারপর একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। তাপমাত্রা শূন্যের ওপর ওঠে। রাস্তাঘাটে জমে থাকা বরফ গলে নিঃশেষ হয়ে যায়।  যেখানে রাস্তার বরফ  জড়ো করে বরফের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছিলো, সেখানে বরফের স্তর পাতলা হতে থাকে। মনে হয়  আজই শেষ, আগামী কাল এখানে আর বরফ দেখা যাবে না।  বিগত কয় মাসের তীব্র শীত ও অবিরাম তুষারপাতে দেহ স্তব্ধ হয়ে যায়;  গরমের জন্য মন আঁকুপাঁকু করে। কিন্তু নিঃশেষ হয়ে আসা বরফের ক্ষয়িষ্ণু স্তূপের দিকে তাকিয়ে মনের মধ্যে এক বেদনার উদ্রেক হয়। মনে হয় পুরোনো কোনো সাথী  চলে যাচ্ছে ধূসর শূন্যের আজান গান শুনিয়ে। শহরের প্রান্তে যে জাতীয় উদ্যানগুলি আছে, সেখানে বরফ আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ টিকে থাকে। এ-সব  জঙ্গলে মানুষের পদচারণা কম। বৃহৎ বৃক্ষরাজি  বরফপিন্ডগুলিকে আগলে রাখে বাইরের দূষণ আর রবাহূত তাপের রোষানল থেকে। মনে হয় এ-যেন অন্য কোন দেশ। বিপ্লবের নিশান উড়িয়ে মে মাস আসে। বরফের  চিহ্ন  ধীরে ধীরে মুছে যায়। হিমশীতলতার অবসান ঘটে। বীজন বাতাস হাসে। প্রকৃতি পল্লবিত হতে শুরু করে। পাখির কূজন এসে জানিয়ে দেয় বসন্ত এসে গেছে।

এই তো সেদিন

বন্ধু বিদায় 


আবর্ত 














Comments