অনাকর্ষ বল

হেলসিংকিতে আমাদের এক বন্ধু দম্পতি থাকে ছেলেপুলে নিয়ে। গেল গ্রীষ্মকালে ওরা আভোকাডোর বীজ লাগিয়েছিল। সেখান থেকে গাছ হয়েছে।  একটা বোতলে। সেই গাছে একটা অদ্ভূত ফল হয়েছিল। বারান্দার কার্নিশে যখন গাছটা রাখা ছিল, ফলটা নীচে পড়ে ফেটে যায়। ওর বীজগুলো ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। বীজগুলো থেকে বেশ কয়েকটা পেয়ারা গাছের চারা হয়। সেগুলো সাম্প্রতিক বড় হয়েছে। মাটি থেকে ওর ডালপালা দোতলায় এপার্টমেন্ট অবধি উঠে এসেছে। পেয়ারা হচ্ছে তাতে। বেশ বড়োসড়ো ডাঁসালো পেয়ারাগুলো। খেতেও ভাল। দেখতেও ভালোবাইরেটা সবুজ আর ভিতরটা টকটকে লাল। গাছটা দেখতে অনেকে যাচ্ছে ওখানে।  কাল দুপুরে আমি আর সৌমি গিয়েছিলাম। গল্প গুজব হচ্ছে, এমন সময় বারান্দায় ফিসফিসে আওয়াজ শুনে, উঁকি মেরে দেখি, গাছের ডালে বসে, স্যার আইজ্যাক নিউটন আর মদন মিত্রের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হচ্ছে। ওদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো তা হচ্ছে নিম্নরূপ:

নিউটন: মহাকর্ষের ফলেই সব উপর থেকে নীচে পড়ে। যেমন, ওই গাছের ফলটা নিচে না পড়লে এই পেয়ারা গাছটাই হতো না আর আমরাও ভাঁটাতে পারতাম না।

মদন মিত্র: তা হলে আমার গোঁফটা খুলে পড়ছে না কেন মাটিতে? গোঁফের চুল মহাকর্ষের বিপরীতে গিয়ে, উপরে উঠে, নাকের ফুটো দিয়ে ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। হাঁচি হচ্ছে। বাড়ির লোকে ভাবছে করোনা হয়েছে।  নাতিটাকে কাছে আসতে দিচ্ছে না। আর আপনি সেই মহাকর্ষের যুগে পড়ে আছেন? আরো নতুন নতুন কত বল আবিষ্কার হয়েছে জানেন আপনি সে সব? কোনো কিছুর খোঁজ খবর তো রাখেন না দেখছি!

নিউটন: আরো নতুন নতুন বল? যেমন?

মদন মিত্র: এই যেমন ধরুন অনাকর্ষ বল। মহাকর্ষ যেমন নিচের দিকে টানে, অনাকর্ষ তেমনি উপরের দিকে টানে। অনাকর্ষের ফলে মাথার চুল বড় হয়, গোঁফের চুল নাকে গিয়ে ঢোকে। অনাকর্ষের ফলেই আপনার ওই দুটি খসে পড়েনি। আর আমাদের দেশে, আগেকার দিনে, মুনীঋষিদের যে বীর্য মাথায় উঠে যেত, সেটাও অনাকর্ষের ফলে। কার উপর মহাকর্ষ বল কাজ করে, আর কার উপর অনাকর্ষ বল কাজ করে এবং কেন করে সেটা নিয়েই এখন বিস্তর গবেষণা হচ্ছে। এই কারণেই তো কুয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে যত হৈচৈ। মুনীঋষিরা সাধনা বলে মহাকর্ষকে অনাকর্ষ আর অনাকর্ষকে মহাকর্ষে রূপান্তরিত করতে পারতেন।  

নিউটন: এতক্ষন ঠিক ছিল, কিন্তু শেষটায় আপনি অনেকটা দিলীপ ঘোষের মতো বকতে শুরু করেছেন। 

নিউটনের কথা শুনে মদন মিত্র কিছু বলতে যাবেন, এমন সময় এলার্মটা বেজে সব মাটি করে দিল। সকালে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল। তাড়াতাড়ি জামা কাপড় পরে বাড়ি থেকে বেরোলাম। মাঝে একটা পার্ক পরে। সেখানে যখন পৌছালাম, হালকা আলো ফুটেছে। মনে পড়ল, দিদা বলে ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়। ঠাকুমাও বলতো।


Comments