কুয়াশায় ঢাকা চাঁদ, একী আলোর শেষ,
অকারণ বৃষ্টি শীতাকাশে, পলাতক মশারা বেশ
হারিয়ে যায় মশারিহীন খোলাকাশের নীলরঙে।
চাঁদের চোখের আলোয় মনের ছায়াগুলি কাঁপে,
দিগন্তরের বৃক্ষহীন মাঠে, সাপশূন্য ঝোপে-ঝাপে,
পালিয়ে যায় তারা বন্ধনহীন জীবনাকাশে।
এই রঙের শেষ নেই,
হয়ত বা আছে অজানা কারোর কাছে।
এই মন তোমার জন্য মদমত্তহীন, সংযমে বাধা।
অমাবস্যার কালো ছায়া, বিড়ালের চোখে লাগে ধাধা,
শূন্য জীবন-রথ সারথীর ক্লান্ত দেহে।
রুপহীন শরীর মনে হয় ঐশ্বর্যে ঢাকা,
বাধ্যতার জাতাকলে।
উপায়হীনেরা ঘুর-ঘুর করে ভদ্যসমাজে,
কালো কালো ছোপ ওদের গায়ে-গতরে, ওদের কর্ম-কাজে।
চাঁদের আলোয় বসে ক্লান্ত কবি চুল ছেড়ে,
ছন্দহীন কবিতা গদ্যপ্রায়,
নিজেই বোঝেনা হায়,
কি লেখে, কে লেখায় তারে।
আশ্বিন আসে শিউলির ডালে ডালে,
শান্ত সরোবরে ফোটা কাশফুল
গত পরশুর বর্ষার কথা বলে।
তবু জীবন চলতে থাকে সময়ের সাথে
কোকিল ডাকা ভোরে, সূর্য না ওঠা প্রাতে
ইচ্ছা অনিচ্ছার তোয়াক্কা না করে।
বিস্মৃত অতীত একদিন জেগে ওঠে কালক্ষেপে,
কোন ঘটনার আকস্মিকতায়
সভ্যতার পথে চলতে চলতে পা মেপে।
শরীরের অঙ্গঁগুলি বিকেন্দ্রীকরণ চায়,
শৈশব মিশেছে তখন বার্ধক্যের দ্বারে
ঘুরপথে অজানা ধোয়াশায়।
ফিরে ফিরে আসে সেই ভোর-রাত,
সেই স্বপ্নের ভোর-রাত,
সেই স্বপ্ন ভাঙ্গাঁর ভোর-রাত।
রুপালী পর্দার নায়িকারা চুমু দিয়ে যায়
অধরের বাম কোনের তিলে
আপন অহংকার উন্মত্ততায়।
ঘুম ভাঙে, ধূসর সূর্যের আলো চোখে লাগে,
দেখি নিস্তরঙ্গঁ প্রৌঢ়ত্ব হাতছানি দিয়ে ডাকে
বসে যৌবনের আগে-ভাগে।
একী প্রৌঢ়ত্ব না যৌবনের শেষ পীড়ি,
নাকী যৌবন ছিল পলাশ ফুলের মত,
তাড়াতাড়ি দিয়েছে সুদূরে পাড়ী
অভিলাষহীন নিসঙ্গঁতায়।
ফিকে হয়ে আসা স্মৃতির অথৈ জলে,
ভালবাসা তার কূল খোজে
বন্ধুর বৌকে পাঠান কবেকার ই-মেলে।
সবশেষে দেখি পড়ে আছে অবশেষ
আছে সব কিছু ঠিকঠাক্, চেনা অচেনা
বিক্রি না হওয়া আলু অথবা নিলামে কেনা
লিওনার্দো-দা-ভিঞ্চির ছবি একই গোত্র বিশেষ।
কোথাও বেদনা নাই, কারো মুখ নেই ম্লান,
ক্রমান্বয় চলেছে শুধু,
আমার সন্তান নিয়েছে আমার স্থান।
Comments
Post a Comment