তখন সদ্য বোম্বে গেছি। আই আই টিতে পড়তে। আমার হিন্দি শুনে সকলে চমকে চমকে উঠছে। একদিন একটা হিন্দী খবরের কাগজ পড়বার চেষ্টা করছি এমন সময় বিহারের ছেলে রাহুল এসে বলল, 'কেয়া বে বাঙ্গালী, হিন্দি সমঝ মে আতি হ্যায়?' উত্তরে বলেছিলাম 'ভেরি থোড়া।' এর কয়েকমাস পরের ঘটনা। তখন 'পানী খানা' থেকে সদ্য 'পানী পিনা'তে উত্তীর্ণ হয়েছি; লিঙ্গদোষ তখনও যায় নি — কে খাড়া হয় হয় আর কে খাড়ি হয় তখনও জানি না। ফিনান্স ডিপার্টমেন্টে ক্লার্কদের সাথে কিছু কাজ ছিল। এদের সাথে হয় হিন্দি বা মারাঠিতে কথা বলতে হতো। মারাঠি বলার কোন প্রশ্ন ছিল না, তাই হিন্দিতেই 'কথাবার্তা' (ভাব বিনিময় বলাটাই উচিত ) হতো। অনেক গলদঘর্ম করে, বহুবার গিয়ে, বহুদিন ধরে লেগে থেকে যখন কাজ শেষ হলো, তখন প্রায় অবসরের মুখে এসে যাওয়া পক্ককেশ এক ক্লার্ক মশাই হিন্দিতে বললেন, 'একটা কথা জিজ্ঞাসা করব পুত্রতুল্য, যদি কিছু মনে না কর?' আমি বললাম 'অবশ্যই।' উনি বললেন 'আচ্ছা তুমি কি ওড়িশা থেকে এসেছ?' আমি প্রতি জিজ্ঞাসা করলাম 'কেন বলুন তো?' উনি বললেন 'না, উড়িয়ারা এমন হিন্দি বলে।' আমি ভাবলাম শুধু শুধু বাঙালিদের বদনাম কেন হবে! তা ছাড়া ওঁর ভুল ভাঙাতে গেলে আরো বক বক করতে হবে। আর আমি যে একেবারে সত্যবাদী যুধিষ্টির তাও তো নয়। তাই বললাম 'হ্যাঁ। কটকে থাকি আমরা। সাত পুরুষের বাস। সুভাষ বোসের জন্ম হয়েছিল আমাদের পাশের বাড়িতে। আমার দাদুর বাবার সাথে ওনার খুব ভাব ছিল। একসাথে আমড়া গাছে চড়ে আমড়া পারত। একবার দুজনে মিলে আমড়া গাছ থেকে আমড়া ছুড়ে ইঙ্গরেজদের মেরেছিল। আমড়ার আঘাতে ইংরেজদের গায়ে চাকা চাকা দাগ.. ' ভদ্রলোক আমাকে থামিয়ে দিয়ে বিগলিত হয়ে বললেন 'দেখলে! তিরিশ বছর ধরে আমি কাজ করছি। মুখ দেখেই বুঝতে পারি।' আমি আর কথা না বাড়িয়ে, একবার দাঁত দেখিয়ে তাড়াতাড়ি করে চলে এলাম।
বেশ উড়েগিরি করেছিস।
ReplyDelete